ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মির্জাগঞ্জ এলজিইডি প্রকৌশলী আশিকুরের ঘুস-দুর্নীতি! Logo দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি ; বিপাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা Logo পরিবেশের জন্য ই-বর্জ্য হুমকি স্বরূপ ; তা উত্তরণের উপায় Logo বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ Logo ঐতিহ্যবাহী সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতির কমিটি গঠন Logo চেয়ারম্যানের আহ্লাদে বেপরোয়া বিআইডব্লিউটিএ‘র কর্মচারি পান্না বিশ্বাস! Logo রাজউকে বদলী ও পদায়নে ভয়ংকর দুর্নীতি ফাঁস: নেপথ্য নায়ক প্রধান প্রকৌশলী  Logo কুবির শেখ হাসিনা হলের গ্যাস লিক, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা Logo ইন্টার্ন চিকিৎসকের হাত-পা ভেঙে দিলেন সহকর্মীরা Logo ঐতিহ্যবাহী শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে অফিসার্স কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত 




চাঁদপুর হাজীগঞ্জের মুজিবুর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টা অভিযোগ

মনিরুল ইসলাম সুমন:
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২২ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ ১১নং পশ্চিম হাটিলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্ষন চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে।

ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার নানীর সাথে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান ও তার সহকারী রাসেল পাটোয়ারীর হাতে যৌনহয়রানি ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ১৭বছরের নাতনি সুমাইয়া আক্তার‌। এঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদি হয়ে চাঁদপুর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার ও তার নানী রোশনারা জানান গতো ০১/১১/২০২২ তারিখ তাদের পারিবারিক একটা মামলার বিষয়ে চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইতে গেলে মামলা মিমাংসা করে দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যান ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তারের নানীর কাছে পনঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

সুমাইয়া আক্তারের নানী রোশনারা সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চেয়ারম্যান ও তার সহযোগী রাসেল পাটোয়ারী তার ১৭বছরের নাতনি সুমাইয়া কে ঢেকে সচিবের রুমে নিয়ে গিয়ে জামাকাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করে, এক পর্যায়ে ধর্ষণ চেষ্টা করলে নাতনির চিৎকার শুনতে পেয়ে আসেপাশের লোকজন জড়ো করেন নানী।

এমতাবস্থায় চেয়ারম্যান ও রাসেল পাটোয়ারী রুম থেকে বের হয়ে একটি গাড়িতে করে চলে যাওয়ার পর কান্নারত অবস্থায় নাতনি সুমাইয়া আক্তার কে উদ্ধার করেন তার নানী সহ আশেপাশের লোকজন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ১১নং পশ্চিম হাটিলা ইউনিয়ন পরিষদ (হাজীগঞ্জ চাঁদপুর)এর চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, আমি ঘটনার দিন ঢাকা যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট অফিসে ছিলাম ঐদিন রাতে আমি চাঁদপুর হাজীগঞ্জ তথা আমার ইউনিয়ন নিজ গ্রামে আসি ঘটনার সাথে আমি কোনো ভাবেই জড়িত নয় এ ঘটনা মিথ্যা সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেও প্রতিপন্ন করার জন্য করা হয়েছে।

ঘটনার দিন ঘটনার পূর্বমুহূর্তে ঐ তারিখের একটি জন্মসনদ চেয়ারম্যানের সাক্ষরিত আমাদের হাতে আসে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা আমার স্বাক্ষরিত তবে এটা আমি কখন করেছি ঠিক মনে নেই অনেক সময় কেউ অনুরোধ করলে আমি তারিখ একদিন আগে পরে করে দিয়ে থাকি।

এলাকার সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসির রয়েছে আরও অসংখ্য অভিযোগ। শাহিন আক্তার নামের এক ভুক্তভোগী অসহায় নারী জানান তাকে একটি সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে ছবি তুলে ফটো সেশন করে ১০০ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

সেলাই মেশিন না পেয়ে শাহিন আক্তার মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এমপির নির্দেশে শাহীন আক্তারকে একটি সেলাই মেশিন দান করেন।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর তিনি মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচনের পূর্বে এলাকার উন্নয়নে জনগণের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর আট মাসের মাথায় প্রায় ১২২ জনের বয়স্ক ভাতার তার কার্ড বাতিল করেন এবং এলাকার গরিব দুঃখী মানুষের উপর বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন চালানো শুরু করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




চাঁদপুর হাজীগঞ্জের মুজিবুর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টা অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৩৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২২

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ ১১নং পশ্চিম হাটিলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্ষন চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে।

ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার নানীর সাথে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান ও তার সহকারী রাসেল পাটোয়ারীর হাতে যৌনহয়রানি ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ১৭বছরের নাতনি সুমাইয়া আক্তার‌। এঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদি হয়ে চাঁদপুর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার ও তার নানী রোশনারা জানান গতো ০১/১১/২০২২ তারিখ তাদের পারিবারিক একটা মামলার বিষয়ে চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইতে গেলে মামলা মিমাংসা করে দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যান ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তারের নানীর কাছে পনঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

সুমাইয়া আক্তারের নানী রোশনারা সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চেয়ারম্যান ও তার সহযোগী রাসেল পাটোয়ারী তার ১৭বছরের নাতনি সুমাইয়া কে ঢেকে সচিবের রুমে নিয়ে গিয়ে জামাকাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করে, এক পর্যায়ে ধর্ষণ চেষ্টা করলে নাতনির চিৎকার শুনতে পেয়ে আসেপাশের লোকজন জড়ো করেন নানী।

এমতাবস্থায় চেয়ারম্যান ও রাসেল পাটোয়ারী রুম থেকে বের হয়ে একটি গাড়িতে করে চলে যাওয়ার পর কান্নারত অবস্থায় নাতনি সুমাইয়া আক্তার কে উদ্ধার করেন তার নানী সহ আশেপাশের লোকজন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ১১নং পশ্চিম হাটিলা ইউনিয়ন পরিষদ (হাজীগঞ্জ চাঁদপুর)এর চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, আমি ঘটনার দিন ঢাকা যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট অফিসে ছিলাম ঐদিন রাতে আমি চাঁদপুর হাজীগঞ্জ তথা আমার ইউনিয়ন নিজ গ্রামে আসি ঘটনার সাথে আমি কোনো ভাবেই জড়িত নয় এ ঘটনা মিথ্যা সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেও প্রতিপন্ন করার জন্য করা হয়েছে।

ঘটনার দিন ঘটনার পূর্বমুহূর্তে ঐ তারিখের একটি জন্মসনদ চেয়ারম্যানের সাক্ষরিত আমাদের হাতে আসে জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা আমার স্বাক্ষরিত তবে এটা আমি কখন করেছি ঠিক মনে নেই অনেক সময় কেউ অনুরোধ করলে আমি তারিখ একদিন আগে পরে করে দিয়ে থাকি।

এলাকার সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসির রয়েছে আরও অসংখ্য অভিযোগ। শাহিন আক্তার নামের এক ভুক্তভোগী অসহায় নারী জানান তাকে একটি সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে ছবি তুলে ফটো সেশন করে ১০০ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

সেলাই মেশিন না পেয়ে শাহিন আক্তার মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এমপির নির্দেশে শাহীন আক্তারকে একটি সেলাই মেশিন দান করেন।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর তিনি মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচনের পূর্বে এলাকার উন্নয়নে জনগণের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর আট মাসের মাথায় প্রায় ১২২ জনের বয়স্ক ভাতার তার কার্ড বাতিল করেন এবং এলাকার গরিব দুঃখী মানুষের উপর বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন চালানো শুরু করেন।