সিন্ডিকেটে জিম্মি নোয়াখালী প্রেসক্লাব!

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৪৯ অপরাহ্ণ, ২৪ নভেম্বর ২০২০

ইসমাইল হোসেন টিটু :
১৯৭২ সাল,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের। স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য একটি স্থাপনা হলো নোয়াখালী প্রেসক্লাব। নোয়াখালী প্রেসক্লাবের শুরু থেকে ক্লাবটি সব সময় সাংবাদিকদের বিচরণে মুখরিত ছিলো। নোয়াখালীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে এই প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিলো প্রশংসনীয়।

২০০৪ সাল পরবর্তী নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা যখন জেলার স্বার্থনৈষী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূখর, ঠিক তখনই একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র অপসাংবাদিকতার ভূমিকায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবকে নিজেদের কব্জায় নিতে সাংবাদিকদের মধ্যে গ্রুপিং তৈরী করে। জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের বৃহৎ অংশকে বাদ দিয়ে মাত্র ২০-২৫জন মিলে অবৈধভাবে প্রেসক্লাবের কমিটি করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের পাশাপাশি প্রেসক্লাবের বিভিন্ন সম্পত্তি তাদের দখলে নিয়ে নেন। এ থেকে শুরু হয় জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কাঁদা ছোড়াছুড়ি।

জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের বৃহৎ অংশকে ক্লাবের সদস্যভুক্ত না করে ২০১০ সালে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ওই কালো নির্বাচনকে ঘিরে ২৪জন বিশিষ্ট নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়। বিভাজনের মধ্যেও রাতের আঁধারে গঠন করা হয় একটি কমিটি। এরপর চলে দু-পক্ষের নানা টানপোড়ন।

২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ওই টানপোড়নের মধ্যে আবারো ক্লাবের নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনের প্রাক-কালে ২৯ ডিসেম্বর প্রেসক্লাবের দু’গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি আলমগীর ইউসূফ ক্ষমতা ধরে রাখতে না পেরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেসক্লাবের সকল দায়িত্ব অর্পণ করেন। এই কর্মকান্ডে জেলার সাংবাদিকরা চরম ক্ষুব্ধ হন।

এরপর জেলা প্রশাসক নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের ঐক্য ফিরিয়ে আনতে জেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেসক্লাবের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সকল সাংবাদিককে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভা কক্ষে আমন্ত্রন জানান। জেলা প্রশাসকরে আমন্ত্রনে সাড়া দিয়ে শতাধিক সাংবাদিক ওই সভায় অংশ নিয়ে বিতর্কিত দুটি গঠনতন্ত্র বাদ দিয়ে সকলের মতামতের ভিত্তিতে জেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিককে নিয়ে একটি নির্বাচনের দাবি জানান এবং নির্বাচিত কমিটি পরবর্তীতে ক্লাবের নতুন গঠনতন্ত্র তৈরী করবেন বলে মতামত প্রকাশ করেন। প্রথম সভার মতামত জেলা প্রশাসক রেজুলেশন আকারে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ওই রেজুলেশনের আলোকে আরেকটি সভা ডেকে সকল সাংবাদিকের উপস্থিতিতে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে সদস্য অন্তভুক্তি ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেন। এরপর দ্বিতীয় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সদস্যভুক্তির জন্য জেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিকদের কাছ থেকে আবেদনপত্র আহব্বান করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা তার বৈধ কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেন। আবেদনকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা যাচাইয়ের মাধ্যমে সদস্য চুড়ান্ত করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গোপনীয় শাখার ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের ১১৯/১ (৫০) নং স্মারকের দ্বিতীয় সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নোয়াখালীর গোপনীয় শাখার ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টম্বর ০৫.৪২.৭৫০০.৩১.০১.০০১.২০১৯-১৪৪ নং স্মারকের সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক নোয়াখালী প্রেসক্লাবের ৮৩জন সদস্যের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর অদ্যবধি নোয়াখালী প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ জেলার সাংবাদিকরা।

এদিকে, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের দায়িত্ব জেলা প্রশাসক বুঝে নেওয়ার পরও প্রেসক্লাবের সকল কর্মকান্ডকে ৮-১০জন সাংবাদিক কুক্ষিগত করে রেখেছে। প্রেসক্লাবের বিভিন্ন রুমের ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও প্রেসক্লাবে বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হল ভাড়ার কোন হদিস নেই। ওই সাংবাদিকরা ব্যক্তি স্বার্থে প্রেসক্লাব দখলে রেখে ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে বরাবরই ষড়যন্ত্র করে আসছে। এ অবস্থায় প্রেসক্লাবের সকল দায়-দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্রুত প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান সাংবাদিকরা।

আপনার মতামত লিখুন :