ইইডি’র চেয়ার আঁকড়ে ধরতে জামাত-শিবির পরিবারের প্রকৌশলী বুলবুলের মিশন!

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:২২ অপরাহ্ণ, ১৭ নভেম্বর ২০২০

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে হচ্ছেটা কি?
সক্রিয় জামাত-শিবির পরিবারের সদস্য বুলবুল আক্তার কে অবসরের তিনদিন আগে পদোন্নতি ও মেয়াদ বাড়ানোর পায়তারা!!
✓শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বান্ধবী পরিচয় জাহির করে নিজেকে!
✓তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সারাদেশে দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ!
✓ন্যূনতম অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও জামাত-শিবির সিন্ডিকেটের সহায়তায় পদোন্নতি ও মেয়াদ বাড়াতে তোড়জোড়!
✓ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজশাহীতে গড়ে তুলেছেন দুইটি অট্টালিকা বাড়ি, ঢাকায় ৪ টি ফ্লাট, নিজের নামে প্রায় ৫ কোটি টাকার এফডিআর!

হাফিজুর রহমান শফিক: স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানকে তোয়াক্কা না করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আক্তারের অবসরের ৩ দিন আগে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতিসহ দুই বছরের মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি মহল।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, প্রকৌশলী বুলবুল আক্তার সক্রিয় জামাত-শিবির পরিবারের সদস্য। তার ছোট ভাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার। রাজশাহী সিটি কমিটির সাবেক বায়তুলমাল সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মানিক। বর্তমানে তিনি রাজশাহী জামাতে ইসলামের রোকন ও রাজশাহী শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বুলবুল আক্তারের পরিবারের প্রত্যেককে জামাত-শিবিরের সাথে সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। একজন স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষের শক্তির ধারক ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে সরকার বিরোধী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আক্তার। আর এসব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। ঘুষ ও দুর্নীতির অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন এই প্রকৌশলী। রাজধানীর চামেলীবাগে রয়েছে একটি আলিশন ফ্লাট, কল্যাণপুরে ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট, রাজশাহীর রানীনগর হাটের মোড়ে একটি বিশাল বিলাসবহুল ভবন এবং ঢাকা য় আরো দুইটি লাক্সারিয়াস ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ চলমান। পরিবারের সদস্যদের নামে নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে নগদ অর্থ সহ নিজের নামে রয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকার এফডিআর।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। নিজের ও প্রকৌশলীদের অদক্ষতা ও সীমাহীন দুর্নীতির দায়ে সারাদেশে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর অবকাঠামো কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। সম্প্রতি আলোচিত ভোলা সরকারি কলেজের ভবন নির্মাণে চুক্তি ভিত্তিক প্রকৌশলীর সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম কে ধামাচাপা দিতে বুলবুল আক্তার মরিয়া হয়ে কাজ করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয় মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রী জানার পরও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে বুলবুল আক্তার নিজেও কোন প্রকার দাপ্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। কথিত আছে প্রকৌশলী বুলবুল আক্তার শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনির বান্ধবী বলেও বিভিন্ন মহলের পরিচয় দিয়ে বেড়ান।

প্রকৌশলী বুলবুল আক্তার সম্পর্কে তার দাপ্তরিক বিভিন্ন সূত্রে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পাওয়ার কাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা নেই তার, দীর্ঘদিন তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। অভিজ্ঞতা শূন্য ও শারীরিক ভাবে অক্ষম তবুও প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি চেয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের (ইইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আখতার। পদোন্নতি পেতে ওই পদের জন্য চাওয়া শর্তগুলো শিথিল করারও আবেদন করেছেন তিনি। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে এ সংক্রান্ত আবেদন করেন বুলবুল আখতার। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেট প্রধান প্রকৌশলী চেয়ারে তাকে বসাতে সুপারিশ করার জন্য তোড়জোড় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই রিপোর্ট লেখার সময়ও বুলবুল আক্তারের পদোন্নতি ও চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ বাড়ানোর ফাইলটি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জামাত-শিবির সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাথে গভীর যোগাযোগ করে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত সূত্রে জানা গেছে।

একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে পদোন্নতি করিয়ে দেওয়া সিন্ডিকেটকে চুক্তির অর্থ সংগ্রহ করার কৌশল হিসেবে বিভিন্ন নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের চাঁদা সংগ্রহ করেছেন প্রকৌশলী বাবুল আক্তার।

উল্লেখ্য, দেশের প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী, প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে ৩ বছরে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আর অনুমোদন না হওয়া খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন দুই বছর।কিন্তু বুলবুল আখতারের অভিজ্ঞতা মাত্র ৮ মাস ১০ দিন। প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকার পরও পদোন্নতি চাওয়া ও মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেট তার পক্ষে পদোন্নতি ও মেয়াদ বাড়ানোর পায়তারা করায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আবেদন যে কেউ করতেই পারেন। কিন্তু শুধু আবেদন করলেই হবে না, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে। এসব ক্ষেত্রে পদোন্নতি দেওয়া যায় কিনা, অন্য কোনও দফতর এমন ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা আমরা দেখবো। এছাড়া পদোন্নতি প্রাপ্য হলেও চাকরি জীবনের সমস্ত রেকর্ডপত্র না দেখে পদোন্নতি দেওয়া যায় না।’

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশের গণপূর্ত অধিদফতর এবং জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদফতরের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে ন্যূনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতার বিধান রয়েছে।

অন্যদিকে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা খসড়া বিধিমালায় প্রধান প্রকৌশলী হতে দুই বছরের অভিজ্ঞতার বিধান রাখা হয়েছে। খসড়া বিধিমালা অনুযায়ীও তার অভিজ্ঞতা এক বছর তিন মাস কম। কিন্তু এরপরও শর্ত শিথিল করে পদোন্নতির আবেদন করেছেন বুলবুল আখতার। মোটা অংকের অর্থের চুক্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেট নিজের পদোন্নতি দিতে কাজে লাগাচ্ছেন বলে সূত্র জানায়।

আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আখতারকে। একই বছরের ১৯ নভেম্বর তাকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পালন করছেন এই কর্মকর্তা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী বুলবুল আখতারের সঙ্গে তাঁর মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ম্যাসেজ দিলেও উত্তর দেননি।

আপনার মতামত লিখুন :