দোহারে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৫

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:২৫ পূর্বাহ্ণ, ২৩ জুলাই ২০২০

নিউজ ডেস্ক;  ঢাকার দোহার উপজেলায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন কর্মকারকে (৪৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের জানান, ২ কেজি স্বর্ণের লোভে তপনকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তপনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী মনি কর্মকার (৩৫) জড়িত বলে জানা গেছে। নিজের অপরাধ ঢাকতে অপহরণের নাটকসহ নানা কৌশলের আশ্রয় নেন ওই নারী। তিনি এখন পুলিশ হেফাজতে আছেন।

এ ঘটনায় গ্রেফতাররা হলেন- তপনের ভাবি মনি কর্মকারের বোন জামাই ভোলানাথ হৃদয় (৪৬), প্রেমানন্দ হালদার (৩০), সাধু বিশ্বাস (৩৫), সবুজ চন্দ্র বিশ্বাস (৩০) ও আলী মিয়া (৩২)। এর মধ্যে ভোলানাথ ও প্রেমানন্দের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা গ্রামে। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগ্নে। এছাড়া সাধু বিশ্বাসের বাড়ি দোহার উপজেলা অরঙ্গাবাদ গ্রামে, সবুজ বিশ্বাসের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার কান্দাবাড়িল্যা গ্রামে এবং আলী মিয়ার বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়।

পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার জানান, গত ১৪ জুলাই রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার পূর্ব লটাখোলা এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন কর্মকারকে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী মনি কর্মকারকে তুলে নিয়ে যায় তারা। পরদিন দুুপুর ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তপনের মৃত্যু হয়। ওই দিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে মনি কর্মকারকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও দুজন সম্পৃক্ত। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, তপন কর্মকার যেহেতু পেশায় একজন স্বর্ণকার, তার বাড়িতে ২ কেজির মতো স্বর্ণ আছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই পরিবারের এক সদস্য তার নিকট আত্মীয়ের সহায়তায় ডাকাতির পরিকল্পনা করে। এই ডাকাতিতে যারা অংশগ্রহণ করবে তারা প্রত্যেকে তিন লাখ টাকা করে পাবে বলে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। ডাকাতির কাজে দুষ্কৃতিকারীরা দা ও ধাঁরালো অস্ত্র ব্যবহার করে।

ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে তপনের পরিবারের ওই সদস্য বাড়িতে প্রবেশের প্রধান ফটক খুলে দিলে ডাকাতরা রাত গভীর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এরই মধ্যে তপনের বড় ভাই কৃষ্ণ কর্মকার ঘর থেকে দেখেন বাড়িতে অপরিচিত লোকের অবস্থান। তখন তিনি চিৎকার দিলে তপন কর্মকার ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় তপন একজনকে জড়িয়ে ধরে ফেললে তাকে ছুড়ি ও ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।এ পরিস্থিতিতে তারা ডাকাতি না করেই চলে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :