ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মঙ্গল শোভাযাত্রা – তাসফিয়া ফারহানা ঐশী Logo সাস্টিয়ান ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর ইফতার মাহফিল সম্পন্ন Logo কুবির চট্টগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ইফতার ও পূর্নমিলনী Logo অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদের মায়ের মৃত্যুতে শাবির মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্ত চিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ পরিষদের শোক প্রকাশ Logo শাবির অধ্যাপক জহীর উদ্দিনের মায়ের মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক প্রকাশ Logo বিশ কোটিতে গণপূর্তের প্রধান হওয়ার মিশনে ‘ছাত্রদল ক্যাডার প্রকৌশলী’! Logo দূর্নীতির রাক্ষস ফায়ার সার্ভিসের এডি আনোয়ার! Logo ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়া শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামোর সংস্কার শুরু Logo বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির দাবিতে শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের মানববন্ধন Logo কুবি উপাচার্যের বক্তব্যের প্রমাণ দিতে শিক্ষক সমিতির সাত দিনের আল্টিমেটাম




কুর্মিটোলা হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে করোনা রোগীরা!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০ ১১৯ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ সংবাদদাতা; 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষিত রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু এখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই অক্সিজেন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। করোনা আক্রান্ত এসব রোগী প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছটফট করলেও পর্যাপ্তসংখ্যক অক্সিজেন ফ্লো-মিটার সরবরাহের অভাবে তাদের অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালটিতে অক্সিজেনের অভাবে বয়স্ক এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে-এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও নার্স জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ভর্তি রোগীর সংখ্যানুপাতে ফ্লো-মিটারের প্রয়োজনীয় সরবরাহ না থাকায় অনেক রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন হলেও তা দেয়া যাচ্ছে না।

তারা জানান, করোনা পজিটিভ রোগীদের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সিলিন্ডার থেকে ফ্লো-মিটারের মাধ্যমে তাদের সবসময় অক্সিজেন দিতে হয়। স্বাভাবিক রোগীর চেয়ে করোনা রোগীরা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করেন। ফলে একজন রোগীকে অক্সিজেন দেয়ার সময় অন্য রোগী শ্বাসকষ্টে ভুগলেও তাদের কিছুই করার থাকে না। অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকট না থাকলেও এগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ফ্লো-মিটার চেয়ে তারা স্টোরে চাহিদা দিয়েছেন, কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করা হয় না।

ওয়ার্ডে কর্তব্যরত একজন নার্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক সময় রোগীর স্বজনদের মুখে অভিযোগ শুনি, নার্সদের ডেকে পাওয়া যায় না। অক্সিজেন, মশারি, বালিশ, চাদর ইত্যাদি চেয়ে পান না। কিন্তু বাস্তবতা হলো স্টোর থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী কোনো কিছুই সরবরাহ করা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘১০০ জন রোগীর জন্য ৫০টি অক্সিজেন ফ্লো-মিটার চাইলে দেয়া হয় মাত্র ২০-২৫টি। চাহিদা পাঠালে উল্টো তাদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয় কেন তারা এত বেশি চাহিদাপত্র দেন। রোগীদের প্রয়োজনেই চাহিদা দিই, বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়। কিন্তু যত দোষ হয় আমাদের।’

কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে তারা নিজেরাই সন্তুষ্ট নন বলে জানান হাসপাতালটির চিকিৎসক-নার্সরা। তারা জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে গিয়ে নিজেরা সংক্রমণের ভয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকেন। তারপরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী না পেলে তাদের কিছুই করার থাকে না।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে অবস্থিত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে দিনকে দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে তিনটি করোনা পজিটিভ ওয়ার্ড, একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড, কেবিন ব্লক ও ইমার্জেন্সিতে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন।

তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী বিশেষ করে করোনা পজিটিভ ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্টের রোগীদের অক্সিজেন ফ্লো-মিটারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে চোখের সামনে রোগীদের ছটফট করে মরতে দেখা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না বলে মনে করছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক-নার্সরা।

এ ব্যাপারে জানতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদকেও।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




কুর্মিটোলা হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে করোনা রোগীরা!

আপডেট সময় : ১১:৫১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০

বিশেষ সংবাদদাতা; 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষিত রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু এখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই অক্সিজেন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। করোনা আক্রান্ত এসব রোগী প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছটফট করলেও পর্যাপ্তসংখ্যক অক্সিজেন ফ্লো-মিটার সরবরাহের অভাবে তাদের অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালটিতে অক্সিজেনের অভাবে বয়স্ক এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে-এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও নার্স জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ভর্তি রোগীর সংখ্যানুপাতে ফ্লো-মিটারের প্রয়োজনীয় সরবরাহ না থাকায় অনেক রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন হলেও তা দেয়া যাচ্ছে না।

তারা জানান, করোনা পজিটিভ রোগীদের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সিলিন্ডার থেকে ফ্লো-মিটারের মাধ্যমে তাদের সবসময় অক্সিজেন দিতে হয়। স্বাভাবিক রোগীর চেয়ে করোনা রোগীরা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করেন। ফলে একজন রোগীকে অক্সিজেন দেয়ার সময় অন্য রোগী শ্বাসকষ্টে ভুগলেও তাদের কিছুই করার থাকে না। অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকট না থাকলেও এগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ফ্লো-মিটার চেয়ে তারা স্টোরে চাহিদা দিয়েছেন, কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করা হয় না।

ওয়ার্ডে কর্তব্যরত একজন নার্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক সময় রোগীর স্বজনদের মুখে অভিযোগ শুনি, নার্সদের ডেকে পাওয়া যায় না। অক্সিজেন, মশারি, বালিশ, চাদর ইত্যাদি চেয়ে পান না। কিন্তু বাস্তবতা হলো স্টোর থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী কোনো কিছুই সরবরাহ করা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘১০০ জন রোগীর জন্য ৫০টি অক্সিজেন ফ্লো-মিটার চাইলে দেয়া হয় মাত্র ২০-২৫টি। চাহিদা পাঠালে উল্টো তাদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয় কেন তারা এত বেশি চাহিদাপত্র দেন। রোগীদের প্রয়োজনেই চাহিদা দিই, বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়। কিন্তু যত দোষ হয় আমাদের।’

কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে তারা নিজেরাই সন্তুষ্ট নন বলে জানান হাসপাতালটির চিকিৎসক-নার্সরা। তারা জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে গিয়ে নিজেরা সংক্রমণের ভয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকেন। তারপরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী না পেলে তাদের কিছুই করার থাকে না।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে অবস্থিত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে দিনকে দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে তিনটি করোনা পজিটিভ ওয়ার্ড, একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড, কেবিন ব্লক ও ইমার্জেন্সিতে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন।

তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী বিশেষ করে করোনা পজিটিভ ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্টের রোগীদের অক্সিজেন ফ্লো-মিটারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে চোখের সামনে রোগীদের ছটফট করে মরতে দেখা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না বলে মনে করছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক-নার্সরা।

এ ব্যাপারে জানতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদকেও।