করোনার প্রভাব মোকাবিলা পুঁজিবাজারের বড় চ্যালেঞ্জ

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:০৬ পূর্বাহ্ণ, ৩০ মার্চ ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা বিশ্বের মতো করোনা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। এমন পরিস্থিতিতে এই বাজারের কোম্পানিগুলো করোনার প্রভাব কাটিয়ে কীভাবে মুনাফার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে বাজারে নতুন করে বিনিয়োগে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে হিসাব কষছেন তারা। ফলে, সামনে দিনগুলোয় পুঁজিবাজারের জন্য করোনার প্রভাব কাটিয়ে ওঠাকেই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার প্রভাব দীর্ঘদিন থাকলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কেমন হবে, সে বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলছে। করোনার প্রভাবে ধারাবাহিক দরপতনের মুখে যেসব বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা শেষ পুঁজিটুকু ফিরে পাবেন কি না, তা নিয়েও দ্বিধায় রয়েছেন। ফলে সব মিলিয়ে সামনে দিনে কঠিন সময় পার করতে হবে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে, চীনের করোনা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ফলে সেখান থেকে কাঁচামাল আমদানিও শুরু হয়নি। ফলে তৈরি পোশাকসহ রফতানিমুখী বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে পণ্য উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানি হয়, এমন দেশগুলোয়ও করোনা ছড়িয়ে পড়ায়, সেব দেশে রফতানি বন্ধ রয়েছে। ফলে রফতানিতেও বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে। সে হিসাবে শেয়ারবাজারের পাশাপাশে দেশের পুরো পোশাকখাতে করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৫৬টি কোম্পানির শেষ প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন, ২০২০) মুনাফা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, করোনার প্রভাবে ২৮ মার্চ দুপুর ১টা পর্যন্ত ৯৭৮টি কারখানার ৮৩২ কোটি পিস অর্ডার বাতিল হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এসব কারখানায় কাজ করেন প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থনীতিতে করোনার যে প্রভাব এখন দেখা দিয়েছে, তা এখনো প্রারম্ভিক পর্যায়ে রয়েছে। এর প্রভাব কীভাবে এবং কোন দেশে কতটা পড়বে, তা পরে বোঝা যাবে। তবে চীনসহ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা যত তাড়াতাড়ি করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পাড়বে, তত তাড়াতাড়ি দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতিও পূরণ করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, টেক্সটাইল, ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশাঙ্কা রয়েছে। কারণ চীন, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আমাদের অর্থনীতি নির্ভরশীল। তারা যত দ্রুত করোনা সংক্রামন মোকাবিলা করে অর্থনীতি স্বাভাবিক করবে, ঠিক তত দ্রুত স্বভাবিক হবে আমাদের অর্থনীতি। তাদের অর্থনীতির পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমাদের দেশের রেমিটেন্স ও রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি ডলারের দাম বেড়ে গেলে পণ্য আমদানিতে ব্যয় বাড়বে। তবে চীন, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হ, আমাদের এ ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব হবে।

জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, করোনা একটি বৈশ্বিক মহামারি। সামনের দিনে এর একটি বিরূপ প্রভাব সার্বিক অর্থনীতিতে পড়বে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। এর প্রভাব শেয়ারবাজারের ওপর পড়বে। ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো সামনের দিনে যে পরিমাণ মুনাফার প্রত্যাশা করেছিল, তা অর্জন করা সম্ভব হবে না। এবার সব কোম্পানির মুনাফা ও লভ্যাংশের পরিমাণ কমবে। এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। আর ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ে কোম্পানিগুলোর দ্বিতীয় প্রান্তিক এবং জুন ক্লোজিংয়ে কোম্পানিগুলোর শেষ প্রান্তিকের (এপ্রিল থেকে জুন) ব্যবসায় ভয়াবহ মার খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, করোনার প্রভাবে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই তাদের ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। আর করোনার প্রভাব কতদিন স্থায়ী হবে, তা কেউই সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না। ধারণা করা যাচ্ছে, করোনার কারণে কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রফতানিনির্ভরশীল, কোম্পানিগুলোর ওপর বেশি নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত লিখুন :