• ২৬শে জুলাই ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জের দাড়িয়ালে আ’লীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি নিয়ে উত্তেজনা; রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

সকালের সংবাদ ডেস্ক;
প্রকাশিত নভেম্বর ৬, ২০১৯, ২৩:৪৪ অপরাহ্ণ
বাকেরগঞ্জের দাড়িয়ালে আ’লীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি নিয়ে উত্তেজনা; রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

বরিশাল প্রতিনিধি; 
বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের আ’লীগের সভাপতি মোঃ সহিদ হাওলাদারকে তৃনমূল আওয়ামীলীগ অনুপ্রবেশকারী নেতা দাবী করে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন এবং তার দেওয়া কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে ঝাড়ু মিছিল করেছে বলে জানা গেছে।

দাড়িয়ালের তৃনমূল সহ বিক্ষুব্ধ নেতারা জানান,  ইউনিয়নে আ’লীগের পকেট কমিটি করায় দুই গ্রুপের মধ্যে গত ২ দিন ধরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে গত ৫ই নভেম্বর বিকেলে ঝাড়ু মিছিল করেছে পদ বঞ্চিত তৃনমূলকর্মী ও দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের পরীক্ষিত নেতারা। ক্ষোভে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী। এ নিয়ে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি সামছুল আলম চুন্নু ও সাধারন সম্পাদক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে দাড়িয়াল ইউনিয়ন আ’লীগ নেতৃবৃন্দ। তারা ইতিমধ্যে বরিশাল জেলা আ’লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে সহিদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ১৬ টি অনিয়মের অভিযোগ লিখিত আকারে অভিযোগ জানিয়েছে। অভিযোগের বলা হয়েছে, সহিদ হাওলাদার তার রাজনৈতিক জীবন শুরু জাসদ দিয়ে এবং জাপা’র রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী সাবেক সাংসদ সৈয়দ মাসুদ রেজার নৌকার বিপক্ষে প্রচারণা চালায়। সহিদ ২০১১ সালে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দাড়িয়াল ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হন। এরপর থেকে এলাকায় দখল দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করে আ’লীগ পরিবারবর্গের উপর বিভিন্ন রকমের হামলা মামলা করে একক ভাবে ক্ষমতা হাসিল করে। সহিদুল ইসলামের যতগুলো সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে জামাত-বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত। তার আত্মীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, আর এক ভাই ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক, তার বেয়াই উপজেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক, আরেক ভাই জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন, তার ভাগিনা সন্ত্রাসী মিল্টন খানকে ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ৩নং দাড়িয়াল ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি করে এবং তার শ্বশুর ১১নং গারুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। এছাড়াও রয়েছে সহিদ একটি বে-সরকারি সংস্থায় মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকুরী করত, কিন্তু এখন সে শত কোটি টাকার মালিক। ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার পরে গরীব ও দুস্থদের অর্থ লুটপাট, মসজিদ, মন্দির এর অনুদান আত্মসাৎ করে টাকা উর্পাজন করে। এলাকায় আ’লীগের প্রভাব খাটিয়ে হিন্দু পরিবার ও অসহায় মানুষের জমি এবং সরকারি খাস জমি দখল করে ২টি ইটের ভাটা তৈরি করে। আরও জানা যায় ঢাকায় গাজীপুরে প্রায় ২০ কোটি টাকার জমি এবং নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জে প্রায় ১৫ কেটি টাকার জমি ক্রয় করে। অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে সহিদের বাড়ির পাশে অসংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায় বসবাস করত। তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মেয়েদের ইজ্জত হানি করে ভিটাবাড়ি ছাড়া করে ভারতে পাঠিয়েছে, আজও তারা এলাকায় তাদের বসতবাড়ীতে ঢুকতে পারে না। ঐতিহ্যবাহী সরকারি নবাবের হাট নবাবের আমল থেকে মঙ্গল ও শনিবার হাট বসত। বাজারের দোকান মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকানঘর তুলে দিয়ে দখল করে নেয় প্রায় ২ একর জমি। পাশের গ্রাম কাজলাকাঠীতে সিদ্দিক বাজার নামে একটি বাজারের ৫০ শতক জমি জালিয়াতি করে দখল করে নেয়। দাড়িয়াল ইউনিয়নে কাটাদিয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন ভূমিহীনদের ১৭ একর জমি জাল ডিক্রীর মাধ্যমে আত্মসাৎ করে নেয়। যার ফলে প্রায় ২০০ ভূমিহীন পরিবার আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে। দাড়িয়ালের কামারখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসলেম আলী খানের জমিতে জোর পূর্বক মাটি কেটে ২টি ইটের ভাটা তৈরি করে। মোসলেম আলী খান বাধা দিলে রাতের আধারে তার বাড়িতে গিয়ে তার মেয়ের ইজ্জত হানি করে ও তাকে হত্যা করার হুমকি দিলে ঐ রাতেই মোসলেম আলী খান হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কামারখালী বিদ্যালয়ে জোর করে ২৩ বছর ধরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হন। সহিদ সভাপতি হওয়ার পর থেকে প্রায় ২ জন প্রধান শিক্ষক, ১ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক, ১ জন সহকারী শিক্ষক ও ১ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের জন্য ৬৫ লক্ষ টাকা ও বিদ্যালয়ের অন্যান্য উৎস থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ দিয়েছে পদবঞ্চিত তৃণমূল আ’লীগ নেতাকর্মীরা। তৃণমূল নেতাকর্মীরা আরও অভিযোগ করে যে, হঠাৎ করে আওয়ামীলীগে এসে এলাকায় ত্রাশের রাজত্ব সৃষ্টি করে বহু হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পত্তি জালিয়াতি, জবরদখল করে এলাকায় এখন জাল দলিল এর সভাপতি হিসাবে পরিচিত।

এসব বিষয়ে সহ সভাপতি বাসিত হাওলাদার বাচ্ছু বলেন, বঙ্গবন্ধুর রক্তে গড়া আওয়ামী লীগকে শহিদুল ইসলাম হাওলাদার নিজের পৈতৃক সম্পদ মনে করেন। যেমন ইচ্ছে তেমন ভাবে চালাচ্ছেন। দাড়িয়ালের আরেক আওয়ামী লীগ নেতা এনায়েত হোসেন পান্না বলেন, শহিদুল ইসলাম হাওলাদার জননেত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে ভুল পথে নিয়ে গেছেন। দাড়িয়ালের শক্তিশালী আওয়ামী লীগকে দ্বন্দ্ব বিভক্ত করে দুর্বল করে দিয়েছে। নিজে দখলবাজি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:০৪
  • ১২:০৮
  • ৪:৪৩
  • ৬:৪৯
  • ৮:১১
  • ৫:২৪
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!