• ১৩ই এপ্রিল ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে চৈত্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফলোআপ;- শিক্ষা কর্মকর্তার যৌন হয়রানির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশ্নবিদ্ধ ভুমিকা!

সকালের সংবাদ ডেস্ক;
প্রকাশিত অক্টোবর ১১, ২০১৯, ২২:০৩ অপরাহ্ণ
ফলোআপ;- শিক্ষা কর্মকর্তার যৌন হয়রানির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশ্নবিদ্ধ ভুমিকা!

আয়েশা সিদ্দিকী:

‘হিন্দোল বারী’ দোহারের নারী শিক্ষিকাদের নিকট আতঙ্ক ও সমালোচিত একটি নাম । ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে‌ দ্বায়িত্বরত আছেন তিনি। নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত এই শিক্ষা অফিসার এর বিরুদ্ধে উঠেছে সরকারি নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ, সম্প্রতি সকালের সংবাদ এ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে “দোহারে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ” নামক শিরোনাম প্রকাশিত হলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পরে চারিদিক সহ দোহারের এলাকাবাসীর মাঝে । শুধু নারী কেলেঙ্কারি নয় সকালের সংবাদ এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে তার নানা অনিয়মের চিত্র। নারী কেলেঙ্কারির মত অসংখ্য অভিযোগের পরেও উপজেলা প্রশাসনের ছিল নীরব ভূমিকায়। শুধু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকটে নয় বিতর্কিত এই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়েছে জেলা শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতসব অভিযোগ করার পরেও নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। তদন্তের নামে চলছে সময়ক্ষেপণ।

নারী কেলেঙ্কারি ইস্যুতে একজন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা দায়িত্বরত সাংবাদিককে মুঠোফোনে বলেন হিন্দোল বারী স্যার আমারকে প্রচুর চাপ দিচ্ছেন এসব অভিযোগ উঠিয়ে নিতে। আমার বাচ্চা দের নিয়ে আমাকে বাঁচতে হবে আপনি দয়া করে আর কোন সংবাদ প্রকাশ করবেন না তাহলে সে আমার অনেক ক্ষতি করবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে। সে বলেছে আপনার প্রতিবেদনটি মুছে দিলে হিন্দোল বারী স্যার আপনাকে অর্থ প্রদান করবেন। আমাকে বাঁচতে হবে। আমি তার অনেক কাজের সাক্ষী আমি অনেক কাছ থেকে হিন্দোল বারীকে দেখেছি তিনি করতে পারেন না এমন কোন কাজ নেই! দায়িত্বরত সাংবাদিক তার নাম প্রকাশ করবে না বলে আশ্বাস দিলে তিনি শান্ত হন।

 

৩১/০৩/২০১৯ তারিখে মেঘুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ-শিক্ষিকা ও শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ- শিক্ষক সমন্বয় বদলি করেন এখানে সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করেন। সমন্বয় বদলি এমন আইন ২০১৩ সালে বন্ধ করে দেয়া হয় তারপর ৩১/০৩/২০১৯ তারিখে মেঘুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নওরীন জাহান কে শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ বদলি করা হয় এবং শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক মনোহর চন্দ্র দাস কে মেঘুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শূন্যপদ না থাকার পরেও় সমন্বয়ে বদলি করা হয়।
২/১০/ ২০১৯ সরকারি কোন বন্ধ না থাকলেও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয় হিন্দোল বারীর পছন্দের কিিছু  শিক্ষক-শিক্ষিকাকে উক্ত অনুুুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার উদ্দেশ্যে  তারা নিজ নিজ বিদ্যালয় হাজির হয়ে শিক্ষক হাজিরা বহিতে সাক্ষর দিয়ে বের হয়ে উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। যা সরকারি নিয়ম ভঙ্গ কারার শামিল  জানা যায়।

এছাড়াও বহু নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে- সাধারনত প্রধান নিরীক্ষক হিসেবে একজন প্রধান শিক্ষককে তিন বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হতে হয়, এবং নির্দিষ্ট বিষয়ের উপরে ট্রেইনার হতে হয় সেখানে তাকে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় প্রধান নিরীক্ষক হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন লটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ নিউজ লেখা পর্যন্ত তার প্রধান শিক্ষক হিসেবে বয়সসীমা এক বছরও হয়নি ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধান শিক্ষক বলেন, আমরা চাইলেই সব কিছু করতে পারিনা শিক্ষা অফিস থেকে যে আদেশ করা হয় শুধু সে অনুযায়ী কাজ করতে হয় ঠিক সেভাবেই মনোহর চন্দ্র দাস ও নওরিন জাহানকে কোন শূন্য পদ ছাড়াই বদলি করে নিয়োগ আদেশ দেওয়া হয় ।

আমাদের হাত-পা বাঁধা। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। দোহার উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মারুফ হাসান বলেন, বিদ্যালয়ে উপস্থিত হবার পর হাজিরা দিয়ে বেরিয়ে গেলে সেই দিনের বেতন কাটা হয় এবং এটা নিয়ম ভঙ্গের কারণ তাই আমি সেদিন উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করার পর আমার বক্তব্যে আমি তা প্রকাশ করেছি এবং তাদের সাথে কোন কথা বলেনি বিষয়টি নিয়ে ১০/১০/২০১৯ খ্রি উপজেলায় মাসিক সমন্বয় সভার মিটিং এ নিয়ম ভঙ্গের উপযুক্ত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্ষমা প্রার্থনা করেন , এবং ভবিষ্যতে আর এমন করবেন না বলে কথা দেন। তাদের শেষবারের মতো সতর্ক করে দেওয়া। তিনি আরও বলেন প্রধান নিরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে একজন শিক্ষকের চাকরির বয়স ১০ বছর হলে তাকে দায়িত্ব দেয়া যায় ।

০৭/১০/২০১৯ তারিখে সকালের সংবাদ অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর প্রধান শিক্ষক সমিতির (একাংশের) সভাপতি কাসেমের নেতৃত্বে সহকারী শিক্ষক সাইফুল, হুমায়ুন, রবিউল মিলে দায়িত্বরত প্রতিবেদকের বাড়িতে যান । সংবাদ প্রতিবেদকের পরিবারকে নানাভাবে বোঝান যেন পরবর্তীতে কোন প্রতিবেদন না হয় এবং বর্তমান প্রতিবেদনটা যেন মুছে ফেলা হয় তার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে নগদ অর্থ দিতেও তারা প্রস্তাব দেন।

তার সকল অপকর্মের অনুসন্ধানী সংবাদ চলবে……..