বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসের গডফাদার তুরাগের মোস্তফা মেম্বার ধরাছোঁয়ার বাইরে!

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:১৭ অপরাহ্ণ, ০২ জুন ২০২০

জাহিদ হাসান রেহান; রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক, তুরাগ থানা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তুরাগ থানার হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হাজী মো: মোস্তফা_ ওরফে মোস্তফা মেম্বার। গত বিএনপি জামাতের শাসনআমলে উত্তরাসহ তুরাগ ও উত্তরা এলাকায় ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা, অবৈধ ফুটপাত বাণিজ্য সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত মোস্তফা মেম্বার তার সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক তিনি।
গত জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ একবার আটক করেছিলো বিএনপি জামাত আমলের অপরাধের ডন মোস্তফা মেম্বারকে।

একাধিক বিশস্থ তথ্য সুত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামাত সরকারের আমলে বিএনপি নেতা মোস্তফার বিরুদ্বে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি মামলা, একটি ট্রিপল হত্যা মামলা, ডিএমপি’র উত্তরা পূর্ব,পশ্চিম, তুরাগ থানা সহবিভিন্ন থানায় নাশকতার মামলা, শতাধিক জিডি সহ পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ থাকলেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তুরাগের হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হাজী মো: মোস্তফা ওরফে সন্ত্রাসী কোটিপতি মোস্তফার পিতার নাম মৃত মিছির আলী মেম্বার। হরিরাপুর ইউনিয়নের বাইলজুরী গ্রামে তার জন্ম। ৪ ভাইয়ের মধ্যে মোস্তফা সবার বড়।

জানা যায়, বিএনপি নেতা হাজী মো: মোস্তফা মেম্বার বর্তমানে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক। রূপায়ন সিটি উত্তরার প্রজেক্টের তার নিজের ৪ বিঘা জমি রয়েছে। রানাভোলা গ্রামে তার রয়েছে বিশাল আলিশান বাড়ি, বিষয় সম্পত্তি। উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টরে নিজের বসবাসরত একটি বহুতল ভবনের বাড়ি, উত্তরা সোনারগাঁও জনপথ সড়কের ১০ কাঠার একটি প্লট। (বর্তমানে) উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর কাঁচাবাজার),নামে বেনামে উত্তরায় একাধিক প্লট,জমি,ব্যাংক ব্যালেঞ্জ, সহ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার মালিক সে। তার পিতা মৃত মিছির আলী একসময় বাইলজুরী এলাকার মেম্বার ছিল।
একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানান, বিএনপি শাসনামলে তুরাগ থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও তুরাগ থানার হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচিত হন হাজী মো: মোস্তফা ওরফে কোটিপতি মোস্তফা। পরপর ২ বার মেম্বার হওয়ার সুবাধে সে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সে নিজে গড়ে তুলেন নামে বেনামে টাকার পাহাড়, জমিজমা, বিষয় সম্পত্তি এবং ব্যাংক ব্যালেঞ্জ। বিএনপির আমলে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ও ক্ষমতার দাপটে তুরাগ ও উত্তরা এলাকায় ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করেছিলেন মোস্তাফা মেম্বার। গড়ে তুলেন একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। সে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে উত্তরার অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ করতেন মোস্তফা মেম্বার।

বিএনপি শাসনামলে (বর্তমানে) তুরাগের হরিরামপুর ইউনিয়টি ছিল ঢাকা-১১ নির্বাচনী এলাকা। সে সময় এখানকার এমপি ছিল বিএনপি নেতা এস,এ খালেক। পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতা হারুন মোল্লা এবং ঢাকা-৫ আসনের বিএনপি নেতা মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম অত্র এলাকার এমপি নির্বাচিত হন। মূলত এই সময় মোস্তফা মেম্বার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হন তিনি।

জানা যায়, ২০০১ সালে বিএনপি শাসনামলের শেষ দিকে তৎকালীন উত্তরা থানা বিএনপি’র সভাপতি ও হরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন কুদরত ই এলাহী লিটন। পরপর সে ২বার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ছিল হাজী মো: মোস্তাফা। বিএনপি আমলে রাজউক উত্তরা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকল্প তার হুকুমে দখল করা হয়। সে সময়ে মোস্তফা মেম্বার তার সন্ত্রাসী বাহিনী সাথে নিয়ে উত্তরায় নামে বেনামে একাধিক প্লটের দখলকৃত মালিক হন। মানুষকে ভয়ভীতি প্রদশন,হুমকী, ধমকী,নির্যাতন,খুন,ঘুম সহ নানা ভাবে নির্যাতন চালিয়েছে। মানুষের জমি,সরকারী প্লট জোরপূর্বক ভাবে জবরদখল ও কোটি কোটি টাকা নিজেই আতসাৎ করেছেন। তখন তার দাপটে এলাকার কেউ কথা বলতে সাহস পেত না। সবাই তাকে বাঘের মতো ভয় পেতো। কেউ যদি তার কথার প্রতিবাদ করতে তাহলে তাকে হতে হতো বলির পাঠা। তার বিরুদ্বে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো সহ নানা ভাবে হয়রানী করতো মোস্তফা মেম্বার। যে কারণে কোনো সংবাদ মাধ্যম তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের সাহস পায় না।

একটি সুত্র জানান, বিএনপি’র শাসনামলে হরিরামপুর ইউনিয়ন সাবেক ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি মেম্বার তৈয়াবুর রহমান, সাবেক ইউপি মেম্বার মজিবুর রহমান ও তার চাচা কাদেরকে আওয়ামীলীগের সমর্থক ও কর্মী হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসারমূলক উত্তরা থানা বিএনপি’র সভাপতি ও হরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন কুদরত ই এলাহী। লিটন ও বিএনপি নেতা ও ইউপি মেম্বার মোস্তফার নির্দেশে প্রকাশ্যে দিবালোকে বিএনপি একদল সন্ত্রাসী তুরাগের নয়ানগর বাজরে গুলি করে ৩জনকে হত্যা করে। ওই ট্রিপল মামলার আসামী ছিল জামাত-বিএনপি’র আমলের সন্ত্রাসী হাজী মো: মোস্তফা। এছাড়া এজাহারভুক্ত আসামী ছিল তুরাগের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বিএনপি কর্মী মো: আলাল, মো: রব সহ অনেকে। তৎকালীন সময়ে ওই হত্যাকাণ্ড ছিল রাজধানীর একটি চাঞ্জর‌্যকর ট্রিপল হত্যা মামলার ঘটনা।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ইউপি মেম্বার মোস্তফার স্ত্রীরও কম ভয়ঙ্কর নয়, বাসার কাজের মেয়ে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছেন মেম্বার মোস্তফার স্ত্রী। তার স্ত্রীর নামে থানায় মামলা সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্বে ২০ থেকে ২৫টি মত রাজনৈতিক মামলা, একটি ট্রিপল হত্যা মামলা, ডিএমপি’র উত্তরা পূর্ব,পশ্চিম,তুরাগ থানা সহবিভিন্ন থানায় নাশকতার মামলা রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানা গেছে।

মোস্তফা মেম্বারের এসব অপরাধের তথ্য অনুসন্ধানে রাজধানীর তুরাগ থানার ওসি নুরুল মোত্তাকিন এর শরণাপন্ন হলে তিনি বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা করেন এবং মোস্তফা মেম্বার এর মামলা সংক্রান্ত কোন প্রকার তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের সহায়তা করেননি। ওসি নুরুল মোত্তাকিন উল্টো এ প্রতিবেদককে বলেন আপনাকে সাংবাদিকতাকে শিখিয়েছে?
অভিযোগ রয়েছে তুরাগ, উত্তরার বিভিন্ন স্থানে মোস্তফা মেম্বারের অবৈধ কার্যকলাপের প্রত্যক্ষ মদদ দাতা তুরাগ থানা পুলিশ। মোস্তফা মেম্বার তার অবৈধ উপার্জনের একটি অংশ তুরাগ থানা কে প্রদান করে বলেও একটি গোপন সূত্রে জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগের বিষয় মোস্তফা মেম্বারের মুঠোফোনে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই অসংখ্য মামলা আমাকে জড়ানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :