পাপিয়া ‘ধাক্কা’ ইউনিক হোটেলের শেয়ারে

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:১৮ পূর্বাহ্ণ, ০৪ মার্চ ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক; অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার শামীমা নূর পাপিয়াকে ঘিরে চলমান ঘটনার জেরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

যুব মহিলা লীগের নরসিংদী জেলার সাধারণ সম্পাদক (পরে বহিষ্কৃত) পাপিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই শেয়ারবাজারে ইউনিক হোটেলের শেয়ারের দাম টানা কমছে। দেশের পাঁচতারকা হোটেল ওয়েস্টিনের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড।

পাপিয়া র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর জানা যায়, ওয়েস্টিন হোটেলের প্রেসিডেন্সিয়াল সুইট ভাড়া নিয়ে দিনের পর দিন অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাতেন তিনি। যেখানে প্রতি রাতের ভাড়া দিতেন দুই হাজার ডলারের মতো। ভাড়া করে পাপিয়া ওয়েস্টিনে যৌনতার বাণিজ্য চালাতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে।

পাপিয়ার অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট ভাড়া দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ওয়েস্টিন হোটেল। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে পাপিয়ার বিষয়ে ওয়েস্টিন হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্যও চাওয়া হয়েছে এরই মধ্যে।

ওয়েস্টিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো দুদকের এ সংক্রান্ত চিঠিতে পাপিয়ার নিয়মিত হোটেলে থাকা ও খাওয়ার বিলের কপি, বিভিন্ন সময় হোটেল বুকিংয়ের কাগজ এবং কার কার নামে রুম বুকিং দেওয়া হতো, সেসব নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দর থেকে পাপিয়াকে গ্রেফতার করার পর র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেছিলেন, পাপিয়ার নামে ওয়েস্টিন হোটেলের ‘প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট’ সব সময় বরাদ্দ থাকতো। হোটেলে নিয়মিত কয়েকজন তরুণী থাকতেন, যারা তার ‘কাস্টমারদের’ বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। এজন্য তাদের মাসিক বেতন বরাদ্দ ছিল। পরে পাপিয়াকে রিমান্ডে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার পাপিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো হয়েছে, তার বিবরণ অনুযায়ী মোট ৫১ দিন ওয়েস্টিন হোটেলের ওই কক্ষে ছিলেন তিনি। আর এজন্য বিল মিটিয়েছেন ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৭ টাকা। আর এই হোটেলে অবস্থানকালে বার ব্যবহারের জন্য ব্যয় করেছেন এক কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিদিন হোটেলকর্মীদের টিপস দিয়েছেন ৮-১০ হাজার টাকা করে। হোটেলের বিল পাপিয়া নগদেই পরিশোধ করেছেন।

পাপিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর তার পাশাপাশি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় ওয়েস্টিন হোটেল নিয়েও। শেয়ারবাজারে পতনের মুখে পড়ে ওয়েস্টিন হোটেলের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের শেয়ারের দাম।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, পাপিয়া গ্রেফতার হওয়ার আগের কার্যদিবস ২০ ফেব্রুয়ারি ইউনিক হোটেলের শেয়ারের দাম ছিল ৫১ টাকা ২০ পয়সা। তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর প্রথম কার্যদিবস ২৩ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমে ৭০ পয়সা। এরপর ৩ মার্চ পর্যন্ত লেনদেন হওয়া ৮ কার্যদিবসের প্রতিদিনই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম আগের দিনের তুলনায় কমেছে। অথচ পাপিয়া গ্রেফতার হওয়ার আগে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউনিট হোটেলের শেয়ার দাম অনেকটা টানা বাড়ে।

এ বিষয়ে ডিএসই’র এক সদস্য বলেন, ওয়েস্টিন হোটেলের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিক হোটেল। সুতরাং ওয়েস্টিন হোটেল নিয়ে কোনো ঝামেলা হলে ইউনিক হোটেলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তেই পরে। ওয়েস্টিন হোটেল নিয়ে দুদক ও পুলিশের টানাহেঁচড়ার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রায়ই আসছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হয় তো ইউনিক হোটেল নিয়ে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিচ্ছে। সম্প্রতি কোম্পানিটির শেয়ার দামের চিত্র তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) এক নেতা বলেন, আমাদের পুঁজিবাজার খুবই সেনসেটিভ। এখানে একটার সঙ্গে আরেকটার লিংক করা যায়। গত কয়েকদিনে ইউনিক হোটেলের শেয়ার দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ক্ষেত্রে পাপিয়ার ঘটনার হয় তো সম্পৃক্ততা আছে। কারণ ওয়েস্টিন হোটেলের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিক হোটেল।

এ বিষয়ে ওয়েস্টিন হোটেলের মালিক নূর আলীর মালিকানাধীন ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং বিএমবিএ’র সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ইউনিক হোটেলের শেয়ার দাম কমছে নাকি বাড়ছে তা আমি দেখিনি। না দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না।

ডিএসই’র পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, পাপিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর ওয়েস্টিন হোটেল নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছে তাতে হয় তো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। যে কারণে সেল প্রেসার (বিক্রির চাপ) আসায় শেয়ারের দাম কমেছে। তবে ইউনিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই হোটেল অত্যন্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠান। যেহেতু শেয়ারের দামে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, ইউনিক হোটেল কর্তৃপক্ষের উচিত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এ বিষয়ে একটি স্টেটমেন্ট দেয়া।

আপনার মতামত লিখুন :