ব্যাবস্থাপনার অভাবে ক্রেতা সংকটে শেয়ারবাজার

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, ১৪ জানুয়ারি ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক; 

ভয়াবহ দরপতনের কবলে পড়া শেয়ারবাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। দফায় দফায় দাম কমিয়েও বিনিয়োগকারীরা তাদের হাতে থাকা অনেক শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীর কোনো আস্থা নেই। বাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। যে কারণে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। আর বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারানোর মূল কারণ সুশাসনের অভাব।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ৩১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে ৯ শতাংশের ওপরে। এমন দাম কমিয়েও অনেক বিনিয়োগকারী এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করতে পারেননি।

শুধু এই ৭টি প্রতিষ্ঠান নয়, এদিন ২৭০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের বড় দরপতন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটির শেয়ার অথবা ইউনিটের দাম কমেছে এক শতাংশের ওপরে। যার মধ্যে ১৫৯টির দাম কমেছে ৩ শতাংশের ওপরে। আর ৫ শতাংশের ওপরে দরপতন হয়েছে ৭৭টির। ৪৬টির দাম কমেছে ৬ শতাংশের ওপরে। এমন দরপতনেও অনেক বিনিয়োগকারী এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করতে গিয়ে ক্রেতা পাননি।

শেয়ারবাজারের এমন ক্রেতা সংকটের কারণ হিসেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুসা বলেন, যেটা ঘটনার কথা না সেটাই ঘটে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা বিমুখ হয়ে গেছেন। বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের কোন আস্থা নেই। আস্থা ফেরানোর জন্য কোনো চেষ্টা চলছে কি না, কে জানে। আর চললেও তা কাজে আসছে না।

তিনি বলেন, যে হারে দরপতন হচ্ছে তাতে এটা স্পষ্ট বাজারে ক্রেতা সংকট আছে। বিদেশিরা দীর্ঘদিন ধরেই শেয়ার বিক্রি বেশি করছে। তবে এমন পতনের বাজারে যারা শেয়ার বিক্রি করছেন তাদের আচরণও স্বাভাবিক না। মোট কথা সার্বিক বাজারের আচরণ এখন অস্বাভাবিক। স্বাভাবিক হলে তো দরপতন হতো না। বিক্রির বদলে তারা শেয়ার কিনতো।

তিনি আরও বলেন, সরকার চাইলে টাকার ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু করে না। অর্ধেক কাজ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলে টাকা দেবে। আবার বলে ৬ মাসের মধ্যে এ টাকা নিয়ে যাবে। সবাই বলে শেয়ারবাজারে লম্বা সময়ের কেনার জন্য। কিন্তু তারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) বলে ৬ মাসের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। এটা সাংঘর্ষিক। এর থেকে বাজারের জন্য কিছু না করা ভালো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, বাজারের ওপর অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে যে তারা আর কোনো ভরসা পাচ্ছেন না।

‘সর্বশেষ ডিএসইর এমডি নিয়োগ নিয়ে বোর্ড সভায় যে ঘটনা ঘটছে তা পত্রিকা মারফত আমরা জানতে পেরেছি। এগুলোও বিনিয়োগকরীদের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে যে, যারা কারসাজি করে, যারা মার্কেট নষ্ট করে তারা খুব তৎপর। এরা নিজেদের লোকজন নিয়ে আসতে চাচ্ছে ডিএসইর ম্যানেজমেন্টে। এটা বিনিয়োগকারীদের জন্য অশনি সংকেত’ বলেন এই শেয়ারবাজার বিশ্লেষক।

তিনি বলেন, এর সঙ্গে শেয়ারবাজারে সংকট তৈরি হওয়ার আরও অনেকগুলো কারণ আছে। যেমন- আমাদের মানি মার্কেটে তারল্য সংকট, সুদের হার বেশি, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট, সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া। এর সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে সুশাসনের প্রকট সংকট। কেন যেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক, ডিএসই প্রতিযোগিতা করে দুঃশাসন নিয়ে আসছে বিনিয়োগকারীদের জন্য।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আমরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। গ্রামীণফোনসহ জটিল বিষয়গুলো আমরা বৈঠকে তুলে ধরেছি। এসব বৈঠক সুফল বয়ে আনেনি। বাজারের মূল সমস্যাগুলো আমরা চিহ্নিত করতে পারলেও তার সমাধান হয়নি। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসেনি। গ্রামীণফোনের সমস্যার সমাধান হয়নি। এতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারের যে দরপতন হয়েছে, তাতে আমাদের কিছু করার ছিল না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা ছাড়া বাজারের এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ কষ্টকর।

আপনার মতামত লিখুন :