পুলিশ বাহিনী জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে প্রতিটি ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:২৫ অপরাহ্ণ, ০৬ জানুয়ারি ২০২০

সকালের সংবাদ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পুলিশ বাহিনী জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। রবিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ মাঠে সুশৃঙ্খল ও নয়নাভিরাম বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ শেষে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পুলিশ সপ্তাহ ২০২০ উপলক্ষে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দৃষ্টিনন্দন ও সুশৃঙ্খল প্যারেড আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্যারেডে অংশগ্রহণকারী সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতার প্রতি, ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের প্রতি। আমি শ্রদ্ধা জানাই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কাল রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাজারবাগে যে হামলা চালিয়েছিল তা প্রতিরোধ করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনীর যেসকল সদস্য জীবন দিয়েছিলেন তাদের সবাইকে এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সকল পুলিশ সদস্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ২৪ বছর সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। যেসময় স্বাধীনতা পেয়েছিলাম পাকিস্তানী শাসক শোষকদের কারণে বাংলাদেশের ৮২ ভাগ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করতো। জাতির পিতা চেয়েছেন বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবেন। বাঙালির প্রতিটি ঘর ও প্রতিটি মানুষ যেন সুন্দরভাবে জীবন পায় সেটাই তাঁর লক্ষ্য ছিল। যখন যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব তিনি নেন। তখন একটা বিধস্ত অর্থনীতি একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা ক্ষতবিক্ষত দেশ অপরদিকে শূণ্য হাতে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন।

আমাদের দুর্ভাগ্য যখন তিনি এই বিধস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলে অর্থনীতির উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। সেই সাথে আমাদের পরিবারে সকল সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। শুধু আমি ও আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে যাই। সেই সময় পুলিশের এএসআই সিদ্দিকুর রহমান জীবন দিয়েছিল। আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আমরা ব্যক্তিগতভাবে পিতা-মাতা, ভাই হারিয়েছি কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ হারিয়েছিল তাদের জীবনটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার সকল সম্ভাবনা। প্রায় ২১ বছর ধরে যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তারাই ক্ষমতায়। কাজেই দেশটাকে লুটপাটের রাজত্ব করেছিল। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অস্ত্রধারী, মানিলন্ডারিং নানা ধরনের কাজ তারা করে গিয়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কোন কাজ করেনি। ২১ বছর পর আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর থেকে আমরা আমাদের দেশকে যেমন অর্থনৈতিক ও উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করি সেই সাথে পুলিশ বাহিনীসহ প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে আমরা ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। একদিকে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা অপরদিকে দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করা। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

প্রতিটি কাজে আমাদের পুলিশ বাহিনী বিশেষ করে আমাদের গণতন্ত্র উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় পুলিশ বাহিনী যথাযথ ভূমিকা রেখেছে। তাদের প্রত্যেকটা পদক্ষেপে অত্যন্ত দক্ষতা, সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে।

আমরা ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি জামাত জোট সরকার। দেশকে আবার ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আমরা আবার সরকার গঠন করি। কিন্তু এরপরে আমরা দেখেছি তাদের সেই ধ্বংসাত্মক চেহারা। বিএনপি জামাত জোট ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে। আমাদের পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২৯জন সদস্যকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। যাঁরা শাহাদত বরণ করেছে তাঁদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তাদের এ সমস্ত ধ্বংসযজ্ঞ পুলিশ প্রতিরোধ করেছে। জনগণ পাশে ছিল। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারা, এধরনের জঘন্য কাজ আর দেশের জাতীয় সম্পদগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা। তাদের এই চেহারা পরম হরতাল, অবরোধ এবং অগ্নি সন্ত্রাস। দেশকে একটা অচল অবস্থার দিকে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। সে সময় বাংলাদেশের প্রতিটি পুলিশ সদস্য নিজের জীবনকে বাজি রেখে মানুষ ও জাতীয় সম্পদকে রক্ষা করেছেন। আপনাদের জানাই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন।

আমাদের সরকার দৃঢ়মূলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, বাংলাদেশ থেকে আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি দূর করবো এবং তার বিরুদ্ধে আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। আমরা চাই দেশ এগিয়ে যাবে। আজ দেশে দেশী বিদেশী বিনিয়োগ আসছে। এই বিনিয়োগ যেন কোন কারণে ব্যহত না হয় এবং দেশের অর্থনীতি যাত্রা যাতে অব্যাহত থাকে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমার জনগণের সেবা করছে পুলিশ। যেটা জাতির পিতা বলে গেছেন। জাতির পিতা ১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাজারবাগে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি পুলিশ বাহিনীর অনেক প্রশংসা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন স্বাধীনতার ইতিহাসের সাথে রাজারবাগের এবং পুলিশের ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমরা মনে করি পুলিশের অবদান সবসময় আমাদের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। যেকোন দুর্যোগে জনগণের পাশে দাড়ায় পুলিশ। কাজেই তাদের সমস্যা সমাধান করা আমাদের কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

প্রথমবার যখন সরকারে এসেছিলাম তাদের রেশন বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। তাদের ঝুঁকিভাতা থেকে শুরু করে অন্যান্য ভাতা ও প্রমোশনের ব্যবস্থা করেছিলাম। লোকবল বৃদ্ধি করেছিলাম। দ্বিতীয়বার যখন সরকারে এসেছি তখনও এই লক্ষ্য সামনে নিয়ে জনবল বৃদ্ধি করেছি। এবার যখন আমরা ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দিয়েছি, বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে, দুর্নীতিমুক্তভাবে এই ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দিয়ে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সেজন্য আমি আপনাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি মনে করে আপনারা একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বাংলাদেশ আজকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য আমরা ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। পুলিশ বাহিনী প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। বিশেষ করে নিরাপদ সড়ক যাতে সৃষ্টি হয় তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আমাদের যারা পথচারী, যারা পথে চলেন তারা অনেক সময় ট্রাফিক রুলস মানেন না। যত্রতত্র গাড়ি চালাই, গাড়ির সামনে ছুটে চলে যাই। কাজেই আমাদের স্কুল জীবন থেকে ট্রাফিক রুলস জানা এবং রাস্তায় চলা সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া একান্তভাবে করতে হবে। এ বিষয়ে আরো যত্নবান হতে হবে। কারণ আমরা চাই একদিকে যেমন জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে অপরদিকে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনী যথেষ্ট সুশৃঙ্খল ভূমিকা রাখছে।

সবথেকে বড় কথা জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস পুলিশ বাহিনী অর্জন করেছে। ৯৯৯ এ টেলিফোন করলে যেকোন সমস্যায় মানুষ পড়লে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ছুঁটে যায় এবং সেই সমস্যা থেকে তাদের মুক্ত করে। ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও এ্যাম্বুলেন্স সেবা জনগণ পেতে শুরু করেছে। আর একটি বিষয় আমরা দেখি সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক সময় নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। ইতোমধ্যে আমরা সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে একটি আইন করে দিয়েছি। এসব গুজব রটনা করে মানুষের ক্ষতি সাধন যারা করে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ ভূমিকা রেখেছে। প্রিয় পুলিশ সদস্যবৃন্দ বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগ সরকার বহুমূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশের জনবল ধাপে ধাপে ব্যাপকহারে আমরা বৃদ্ধি করেছি এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। শুধু জনবল বৃদ্ধি না, আমরা পদোন্নতিরও ব্যবস্থা করেছি। নতুন নতুন পদ সৃষ্টি করে আমরা পদায়ন দিচ্ছি। আমরা পুলিশ বাহিনীতে গ্রেড ১ ও গ্রেড ২ পদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দিয়েছি। পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে আমরা নতুন নতুন ইউনিট করে দিয়েছি। যেমন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি এন্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশসহ বিভিন্ন পুলিশের ইউনিট আমরা গঠন করেছি। এমনকি মিয়ানমার থেকে বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। সেখানেও আমরা পুলিশের দুইটি এবং র‌্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন গঠন করে কক্সবাজারে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস নির্মূলে ইতোমধ্যে পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথমবার যখন সরকারে ছিলাম তখনই পুলিশের স্ট্যাফ কলেজ তৈরি করে দিয়েছিলাম। তাছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীসহ পুলিশের ট্রেনিং সেন্টারগুলিকে আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। জাতিসংঘে পুলিশ বাহিনী বিশেষ করে আমাদের মেয়েদের একটি কন্টিনজেন্ট অবদান রাখছে। তাই পুলিশের সদস্যদের বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। যেন আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের পুলিশ বাহিনী চলতে পারে। সেই ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।

আমাদের নারী পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের ট্রেনিংয়ের জন্য আলাদা একটা ব্যবস্থা আমরা নিবো। ট্রেনিং সেন্টার খোলার চিন্তাভাবনা আমাদের রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ সাইবার ট্রেনিং সেন্টার, ডিএনএ ল্যাব, আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব, অটোমেটেড ফিংগার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এএফআইসি) এবং আধুনিক রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন করে এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পুলিশের কল্যাণের দিকে লক্ষ্য রেখে একটা কল্যাণ ফান্ড আমরা করে দিয়েছিলাম। এবার আমরা একটা কমিউনিটি ব্যাংক পুলিশের জন্য করে দিয়েছি। পুলিশের কল্যাণ ট্রাস্টের অধিনে এই ব্যাংক পরিচালিত হবে। যেখান থেকে পুলিশ সদস্যরা খুব সহজে ঋণ নিতে পারবে। অথবা অবসর নেওয়ার পরও আপনারা ঋণ নিয়ে কাজ করতে পারবেন। যেকোন কাজে যেকোন সময় আপনারা যাতে সহযোগিতা পান সেলক্ষ্য নিয়ে আলাদা একটি ব্যাংক আপনাদের জন্য করে দেয়া হয়েছে।

সকল পুলিশ সদস্যরা রেশন পাচ্ছে। ৯৬ সালে যখন সরকারে আসি তখন দেখেছি মাত্র ২০ শতাংশ পুলিশ রেশন পেত। এখন আমরা পূর্ণাঙ্গ রেশন সকলের জন্য দিয়ে দিচ্ছি। যারা অবসরপ্রাপ্ত তাদের আজীবন রেশনের ব্যবস্থাও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। আমরা সেটাও ব্যবস্থা করে দিবো। তাছাড়া সকলের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করে দিয়েছি। থানা, ফাঁড়ি, তদন্তকেন্দ্র, ব্যারাক ও আবাসিক ভবন নির্মাণে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রতি জেলায় এবং বিভিন্ন এলাকার অনেক জায়গায় আমি দেখেছি জরাজীর্ণ পুলিশ স্টেশন। আমরা সেগুলি সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তুলছি। যারা জনগণের নিরাপত্তা দিবে তাদের নিরাপত্তা পাশাপাশি সুন্দরভাবে থাকা এবং তাদের আবাসনের যে সমস্যা সে সমস্যাও আমরা দূর করে দিচ্ছি। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ চলছে। আমরা পুলিশের জন্য কেন্দ্রীয় হাসপাতাল নির্মাণ করে দিয়েছি। তাছাড়া বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতালও নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে চিকিৎসা সেবাটা আপনারা দ্রুত পেতে পারেন। যানবাহনের সমস্যা পুলিশের জন্য সবসময় থাকে। ইতোমধ্যে আমরা যানবাহনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। তাছাড়া পুলিশের কার্যক্রমে গতিশীলতা যাতে বৃদ্ধি পায় সেজন্য মোটরসাইকেল ও গাড়ির ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বরাদ্দকৃত অর্থকে আমরা ঠিক ব্যয় হিসেবে নেই না, আমরা মনে করি জনগণের স্বার্থে জনগণের কল্যাণে এটা আমাদের একধরণের বিনিয়োগ। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক সাজে সজ্জিত করে এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে জনগণের সেবা যাতে নিশ্চিত করতে পারে তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ আমরা নিয়ে যাচ্ছি। যার মধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি আজকে পুলিশের মাঝে গুনগত বিরাট পরিবর্তন এসেছে। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সেজন্য পুলিশ বাহিনীকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকে যারা বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক এ ভূষিত হয়েছেন তাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা। যে বাংলার স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন। সেলক্ষ্য নিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আজ আমরা দারিদ্রের হার ২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছি যা একসময় ৫০ শতাংশ ছিল। আরো কমিয়ে এনে বাংলাদেশকে দারিদ্রমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা প্রতিষ্ঠিত করবো। সেই লক্ষ্য দিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে আপনাদের সবধরণের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। আপনারা ভালো থাকেন, সুস্থ্য থাকেন। জাতির পিতার এই জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। সেই কামনা করে আমি বাংলাদেশ পুলিশের উত্তোরত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে পুলিশ সপ্তাহ ২০২০ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।

এসময় ২০১৯ সালে পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৪ জন পুলিশ সদস্যকে “বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)”, ২০ জনকে “রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)” এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জন পুলিশ সদস্যকে “বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা” এবং ৫৬ জনকে “রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক(পিপিএম)-সেবা” প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন :