ক্যাসিনো সম্রাটের সহযোগী রিপন দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হওয়ার দৌড়ে 

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:১০ অপরাহ্ণ, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ গণমাধ্যমে ক্যাসিনোর অভিযোগে অভিযুক্ত ও যুবলীগ থেকে বহিস্কৃত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদের সাথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর বিশৃংখলার দায়ে বিলুপ্ত কমিটির সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি কামরুল হাসান রিপন এর ভাইরাল হওয়া কিছু ছবি জনমনে ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, কামরুল হাসান রিপন এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাট।

সরকার প্রধান থেকে শুরু করে দেশবাসী ক্যাসিনো সাঈদ বা কাউন্সিলর সাঈদ সম্পর্কে জানা। অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে তার ঢাকা শহরে আত্মপ্রকাশ। পরবর্তীতে মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের পৃষ্ঠপোষকতা করে মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক পদ লাভ করে। এরপর সম্রাট তাকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বানান এই ঘটনা কারোই অজানা নয়।

তাদের সাথে কামরুল হাসান রিপনের নাম উঠেছে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সাথে যোগসাজশে বিভিন্ন অপকর্মের জড়িত হওয়ার অভিযোগ।

জানা গেছে, কামরুল হাসান রিপন এর নিয়মিত যাতায়াত ছিল সম্রাটের কাকরাইল অফিসে। মূলত তিনি রাজনৈতিক চক্রায়নে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের প্রতি নিজের আনুগত্য প্রকাশ করে নিজেকে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতাবান হিসেবে প্রকাশ করেন । সম্রাট তাকে নিজের লোক ভাবতেন। তাই সম্রাট জি কে শামীম এর সহায়তায় মমিনুল হক সাঈদ কে সভাপতি ও কামরুল হাসান রিপন কে বিআইডব্লিউটি এর ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বানান। এমনকি কামরুল হাসান রিপন কে আশ্বস্ত করেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এর কেন্দ্রীয় শীর্ষস্থানীয় নেতার সাথে সুসম্পর্কের সুবাধে আগামীতে অর্থাৎ বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর গুরুত্বপূর্ণ পদ পাইয়ে দেবেন।

উল্লেখ্য, মমিনুল হক সাঈদ ও কামরুল হাসান রিপন বাংলাদেশ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে একমাত্র ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা নিবেদন করে নিজেদেরকে শুধুমাত্র ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এর লোক হিসেবে প্রমাণিত করেন। এতে প্রমাণিত হয় এদের নিয়ন্ত্রক ছিলেন সম্রাট। এ নিয়ে দলের লোকজনের মধ্যে প্রশ্ন হচ্ছে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের পৃষ্ঠপোষকতা কার প্রতি ছিল?

ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাট এর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরী করেই রিপন আবার সেই দখলবাজিতে মেতে উঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি যাত্রাবাড়ী এলাকায় ৮ থেকে ১০ টি জায়গা দখল করেছেন বলে জমির মালিকরা অভিযোগ করেছেন। তারা রিপনের হাত থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার কাছে রিপনের বিরুদ্ধে নালিশ দিয়েছেন বলে এলাকা সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়াও কামরুল হাসান রিপন এর নামে ছাত্রলীগ করা অবস্থা থেকেই ফ্ল্যাট দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক সেবন ও দলের ভিতর গ্রুপিং সৃষ্টি করে মারামারির অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ঐ অভিযোগে তৎকালীন সময়ে তার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও গ্রুপিং এ অতিষ্ঠ হয়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২১ শে ডিসেম্বর ২০১০ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্ত করে দেন। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ এর সভাপতি হওয়ার আগে গুলিস্তান রমনা হোটেল থেকে মাদক সহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কামরুল হাসান রিপন।

সে ঘটনা নিয়ে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষের পর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময় এ নিয়ে তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। সংগঠনের শৃংখলা বিরোধী কর্মকান্ড ঘটানোর অভিযোগে কমিটি বিলুপ্ত করা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সে সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি কামরুল হাসান রিপন গ্রুপ ও সাধারন সম্পাদক গাজী আবু সাঈদ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অর্ধ শতাধিক ছাত্র আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকালে উভয় গ্রুপই হকিস্টিক, রড, লাঠিসোটা, রামদা ও হাতবোমার ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে রণক্ষেত্রে পরিনত করেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন গ্রুপের সমর্থকরা সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে পুরান ঢাকা জুড়ে চাঁদাবাজির মহোৎসব চালাতেন বলে ছাত্রলীগের সাধারন কর্মি-সমর্থকদের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায়ই এ দুই গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাইরেও শক্তির মহড়া দিতো। তাদের পারস্পারিক অপরাধমূলক কর্মকান্ডে ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি নানারকম অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছিল বলেও অভিযোগ ছিলো।

এ ঘটনা নিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার ঘোষণায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগ কর্মি-সমর্থকদের মাঝে স্বস্তির পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :