নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অপরাধের চাঞ্চল্যকর  তথ্য ফাঁস!

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:২৩ অপরাহ্ণ, ০৬ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের বদলী হওয়ার পর থেকেই জেলা পুলিশের নানা চাঞ্চ্যলক তথ্য বেরিয়ে আসছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় হারুন অর রশিদের বদলীর খবরে জেলা পুলিশের সৎ ও সাহসী পুলিশ সদস্যরাও সন্তুষ্ট প্রকাশ করে অজানা নানা তথ্য দিয়েছেন। হারুন অর রশিদের অপকর্মের সহযোগীতা করতে নিজের পছন্দে জেলা পুলিশকে সাঁজিয়েছেন তিনি। নাম না প্রকাশ্যের শর্তে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানিয়েছে, জেলার সাতটি থানায় ওসি ও ইন্সপেক্টরদের নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক বানিজ্য করেছেন হারুন অর রশিদ। এছাড়াও এসআই থেকে কনস্টবলদের কাছি থেকেও বদলী বানিজ্য করেছেন তিনি। তাই হারুন অর রশিদ যোগদানের পর থেকেই জেলার সাতটি থানার ওসি ও ইন্সপেক্টরদের রত বদল হয়। অনুসন্ধানী সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ছিলেন হারুন অর রশিদের ঘনিষ্টজন। গাজীপুরে হারুন অর রশিদ এসপি থাকাকালীন সময়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছিল। হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জে আসার পর আসাদুজ্জামানকে ফতুল্লা মডেল থানায় আনতে তৎকালীন ওসি শাহ মঞ্জুর কাদিরকে বেকায়দায় ফেলে বদলী করার। কিন্তু শাহ মঞ্জুর কাদিরকে বদলী করলেও নিজের সততা ও পুলিশের উর্ধ্বতম কর্মকর্তার নির্দেশে ফতুল্লা থানার ওসির দায়িত্ব দেয়া হয় আসলাম হোসেনকে। এসেই ক্ষিপ্ত হয়ে আসলাম হোসেনকে বেকায়দায় ফেলে বদলী করিয়ে আসাদুজ্জামানকে ফতুল্লায় আনার চেষ্টা চালান হারুন অর রশিদ। এতে ব্যর্থ হয়ে সদর ওসি কামরুল ইসলামকে ডিবিতে বদলী করে সদর থানায় আসাদুজ্জামানকে নিয়ে আসছেন। কথিত আছে কোটি টাকা খরচ করে নারায়ণগঞ্জে এসেছেন আসাদুজ্জামান। আসাদুজ্জামান সদর থানায় যোগদানের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতিসহ বেআইনী কাজ করার অভিযোগ রয়েছে আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে যা অনুসন্ধান শেষে প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও সেবা নিতে আসা মানুষের সাথে খারাপ আচার করারও অভিযোগ রয়েছে আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তবে আসাদুজ্জামান বলছেন, কোন টাকার বিনিময়ে তিনি সদর থানায় ওসি হিসেবে আসেননি। সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোস্তফা এর আগে ফতুল্লা ছিলেন। ফতুল্লা থেকে টানবাজার ফাঁড়িতে বদলী করা হয়েছিল তাকে। পরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মোস্তফা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসেবে যোগদান করেন। তাই বৈধ এর চেয়ে অবৈধ ভাবেই টাকা ইনকাম করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মোস্তফা। ইন্সপেক্টর (অপারেশন) জয়নালও দীর্ঘদিন ধরেই সদর থানায় রয়েছেন। পুলিশ কনস্টবল নিয়োগের সময় জয়নালকে ক্লোজ করা হলেও পরবর্তিতে বিশেষ সুবিধায় আবারো সদর থানায় যোগদান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেনকে বদলী করতে ব্যর্থ হওয়ায় হারুন অর রশিদ ক্ষিপ্ত হয়ে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হাসানুজ্জামানকে ওসি আসলাম হোসেনের পিছনে লাগিয়ে দেন হারুন অর রশিদ। হাসানুজ্জামানও হারুন অর রশিদের সাথে গাজীপুরে চাকুরী করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, হাসানুজ্জামান – পুলিশ সুপারের ঘনিষ্টজন হওয়ায় মুশকিল আহসান সেন্টার খুলে বসেছেন। অর্থের বিনিময়ে অসম্ভবকে সম্ভব করছেন তিনি। জমি সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা থানায় বসেই সমাধান করছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, অসহায় জমির মালিকদের হুমকি দিয়েও প্রতিপক্ষকে জমি বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়াও বিশেষ সুবিধায় তদন্ত ছাড়াই মামলা করারও চুক্তি বদ্ধ হন তিনি। নীরহ ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগও রয়েছে হাসানুজ্জানের বিরুদ্ধে। কথিত আছে, হারুন অর রশিদের এবারের টার্গেট ছিল ওসি আসলাম হোসেনকে সরিয়ে হাসানুজ্জামনকে ওসি করার পরিকল্পনা ছিল হারুন অর রশিদের। সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হেলাল উদ্দিনকেও এনেছেন হারুন অর রশিদ। তারা দুইজনই হারুন অর রশিদের সাথে পূর্বে চাকুরী করেছেন। আর মনিরুজ্জামান এসপি হারুন অর রশিদের একই গ্রামের লোক। রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসানও হারুন অর রশিদের ঘনিষ্টজন। মাহমুদুল হাসান একই থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসেবে ছিলেন। পরে হারুন অর রশিদ বিশেষ সুবিধায় ওসিকে বদলী করিয়ে মাহমুদুল হাসানকে ওসি হওয়ার সুযোগ করে দেন। তবে এব্যাপারে মাহমুদুল হাসান বলেন, স্যারের সাথে আগে চাকুরী করেছি। তিনি আমাকে যোগ্য মনে করেই ওসির দায়িত্ব দিয়েছেন। আর আসলে শুধু স্যারই না, সাড়া দেশে এসপিরা কোথাও গেলে তার সাথের লোকদেরও নিয়ে যান। এখন তিনি একটু সমস্যায় আছে বলে বিভিন্ন কথা বলা হচ্ছে। আমি কোন সুবিধা দিয়ে ওসি’র দায়িত্ব নেইনি। সূত্রে আরো জানা গেছে, হারুন অর রশিদের কথা মত অপরাধ মূলক কাজ করতে অনীহার কারণে সিদ্ধিরগঞ্জের ওসি শাহীন শাহ পারভেজকে বদলী করে দেন হারুন অর রশিদ। এরপরই কামরুল ফারুক সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন। কামরুল ফারুক যোগদানের পরই সিদ্ধিরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর অভিযোগ। জেলা বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ রোমান ছিলেন হারুন অর রশিদের মিডিয়া উইনিং। এছাড়াও হারুন অর রশিদের সকল কার্যক্রম সাজ্জাদ রোমানই মনিটরিং করত। সম্প্রতি ডিবির ইন্সপেক্টর এনামুল হকের বদলী নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন। তবে এব্যাপারে এনামুল হক কিছু না বললেও শুধু জানিয়েছিলেন, আমার সাথে অন্যায় করা হয়েছে। এর বিচার আল্লাহই করবেন। এদিকে, বদলী বাণিজ্যের নেপথ্যে আর ও. ওমর ফারুককে দায়ী করেছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তবে অনেকেই বলেছেন, আর ও. ওমর ফারুক ছিলেন এসপির প্রতিনিধি। তিনি যা নির্দেশ করত তাই পালন করছেন ওমর ফারুক। গতকাল সোমবার একাধিক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, জেলা পুলিশের অনেক সদস্যই আতংকে রয়েছেন। বিশেষ করে যারা পোষাকের দাপট দেখিয়ে বেআইনী কাজ করেছেন তারা বেশি আতংকে রয়েছেন। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অনেকেই নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলী হয়ে অন্যত্র যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

সূত্র; অনলাইন থেকে গৃহীত।

আপনার মতামত লিখুন :