নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজ -এ পালিত হলো আন্তর্জাতিক আয়ুর্বেদ দিবস।

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:০৭ পূর্বাহ্ণ, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদন

নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজে প্রতি বৎসরের ন্যায় গত শুক্রবার দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র ও সকল শিক্ষকের আইকন ‘আব্দুল মতিন মুক্ত’ সাহেবের উপস্থাপনায় আনুষ্ঠানিক ভাবে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক আয়ুর্বেদ দিবস-২০১৯।সেই সাথে কেক কাটা সহ সকল শিক্ষকদের পক্ষে সবাইকে সার্বিক সহযোগিতা করেন ‘প্রভাষক ডাঃআবু সোলাইমান মাশরেকী। সকল সন্মানিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে পালন করা হয় এই দিবসটি।

দিবসটি পালন কালে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সন্মানিত ব্যক্তি মহোদয়গন।

জনাব এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সি(প্রাক্তন মন্ত্রী),প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট,নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজ।

জনাব রাকিব মোঃ ফখরুল,চেয়ারম্যান-এপি ঢাকা লিঃ,ভাইস চেয়ারম্যান-নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজ।

জনাব সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী, প্রেসিডেন্ট-ইউনানি ঔষধ শিল্প সমিতি।

জনাব জামাল উদ্দিন ভূইয়া রাসেল,পরিচালক-হামদার্দ বাংলাদেশ।

জনাব মোস্তফা নওশাদ জাকী,সদস্য-বাংলাদেশ ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক বোর্ড।

ডা.মুহাম্মদ মামুন মিয়া,অধ্যক্ষ,নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজ।

ধন্বানন্তরী জয়ন্তী (ধনতেরাস) উপলক্ষে প্রতি বছর জাতীয় আয়ুর্বেদ দিবস পালিত হয়। এই বছর আয়ুর্বেদ দিবসটি ২৫ই অক্টোবর ২০১৯ইং শুক্রবার পালন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ডা.মুহাম্মদ মামুন মিয়া বলেন,আয়ুর্বেদকে আধুনিক কালে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ঔষধের অন্যতম প্রাচীন এবং সুস্পষ্ট নথিভুক্ত সিস্টেম হিসাবে ধরা হয়। স্বাস্থ্যকর ব্যক্তিদের জন্য বা রোগাক্রান্তদের জন্য এর সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অতুলনীয় রয়ে গেছে।রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যের প্রচারই আয়ুর্বেদের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন,বাংলাদেশে সবার কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে হবে৷ আর এ জন্যই বাংলাদেশ এই চিকিৎসা ও ওষুধ ব্যবস্থাকে আইনগত স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার৷বহুল প্রচলিত অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার বাইরে আয়ুর্বেদিক এক ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিকল্প মেডিসিন বলা হয়৷ এই চিকিৎসা ব্যবস্থা কয়েক শত বছরের পুরনো৷ বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রচলিত৷ সরকার এখন এর উপর আরো জোর দিচ্ছে৷স্বাস্থ্যসেবায় এসডিজি-র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বাংলাদেশকে বিকল্প চিকিৎসা অর্থাৎ আয়ুর্বেদিক ব্যবস্থায় গুরুত্ব দিতে হবে৷

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশের প্রায় ৮০ ভাগের বেশি মানুষের ইউনানি ও আয়ুর্বেদের উপর আস্থা রয়েছে।বাংলাদেশে এই চিকিৎসা ব্যবস্থার জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে৷ বিকল্প মেডিসিন সরাসরি প্রকৃতি থেকে নেয়া ভেষজ চিকিৎসা ও সরাসরি হার্ব থেকে ওষুধ তৈরি হয়৷ যেমন কাশির চিকিৎসার উপাদান পাওয়া যায় বাসক এবং তুলসি থেকে৷ আমরা সরাসরি এটা থেকে ওষুধ বানাই৷ এটা বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত চিকিৎসা ব্যবস্থা৷দুঃখ জনক একটি বিষয়, দু’শ বছরে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা পিছিয়ে পড়ে তবে এটা এখন আবার এগোচ্ছে৷

অ্যান্টিবায়োটিকের নতুন জেনারেশন নেই৷ ননকমিউনিকেবল ডিজিজ, যেমন ডয়াবেটিস, প্রেসার, কিডনি রোগ এগুলোতে অ্যালোপ্যাথিক এক ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে কিন্তু আয়ুর্বেদিক ও ইউনানিতে সীমাবদ্ধতা নেই বলে আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ভালো চিকিৎসা হয়৷

বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ২৫০ জনের মতো বিকল্প মেডিসিনের চিকিৎসক নিয়োগ পেয়েছেন৷ আরো ২৫০ জনের মতো চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে৷ প্রতিটি জেলা হাসপতালে বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে৷ উপজেলা হাসপাতালেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হচ্ছে৷ সারা দেশে এর গ্র্যাজেুয়েট রেজিস্টার্ড চিকিৎসকদের হাজারেও বেশি৷সরকার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের অধীনে বিকল্প মেডিসিনের একটি সেল করেছে৷ তার অধীনে একজন পরিচালক এই বিকল্প মেডিসিনের বিষয়গুলো দেখেন৷ ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক সরকারি মেডিক্যাল কলেজ আছে দু’টি। এই সব কলেজে এমবিবিএস-এর সমমানের ডিগ্রি কোর্স পড়ানো হয়৷ ডিপ্লোমা পড়ানো হয় নূর-মজিদ আয়ুর্বেদিক কলেজ সহ এরকম কলেজ আছে অনেক৷

বাংলাদেশে ৪৫০টির মতো ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠান আছে৷বিপরীতে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠান আছে কম-বেশি ২৩০টি৷এই চিকিৎসার ইতিবাচক দিক হলো এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে৷যেটুকু প্রতিক্রিয়া হয় তা কাউন্টেবল নয়৷ এই চিকিৎসার খরচও অ্যালোপ্যাথিকের চেয়ে অনেক কম৷ এখন শৈল্য চিকিৎসায়ও বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা এগিয়ে যাচ্ছে৷শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বেই এখন বিকল্প মেডিসিনের চাহিদা বাড়ছে৷ মানুষ এখন চায় ন্যাচারাল ও পার্শ-প্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা৷এখন পর্যন্ত ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার আলাদা কোনো সরকারি হাসপাতাল হয়নি৷ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে আমাদের আলাদা ইউনিট দেয়া হয়েছে৷

বাংলাদেশের যে আর্থ সামজিক অবস্থা, তাতে শুধুমাত্র অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসাব্যবস্থা দিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব নয়৷ হতদরিদ্র মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে হবে৷ এ কারণেই সরকার বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থায় জোর দিচ্ছেন৷ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে৷ এর আওতায় বাংলাদেশ থেকে ছাত্ররা বিকল্প মেডিসিনে উচ্চশিক্ষার জন্যও বিদেশে যেতে পারবে ও ওষুধ তৈরিতে সহায়ক পাওয়া যাবে৷

কিন্তু বাংলাদেশে বিকল্প চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগও অনেক৷ বিশেষ করে যৌন চিকিৎসার নামে এক শ্রেণির চিকিৎসক মানুষের সাথে প্রতারণা করছে৷ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ইউনানি ও হারবাল চিকিৎসার নামে প্রচুর চিকিৎসা কেন্দ্র আছে৷ এমনকি ওইসব কেন্দ্রে ‘সর্বরোগের মহৌষধ’ দেয়ার কথাও বলা হয়৷ বিভিন্ন প্রাণির তেলসহ অদ্ভুত সব দাওয়াই দেয়া হয়।এগুলো প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না৷অনেকেই চিকিৎসকের যোগ্যতা ছাড়া বা ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে এ সব প্রতিষ্ঠান খোলেন৷ এর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ও মাঝেমধ্যে ব্যবস্থা নেয়৷ তবে মনিটরিং আরো জোরদার করা প্রয়োজন৷ তাছাড়া মানুষকে সচেতন করতে হবে ও নিজে সচেতন হতে হবে৷ জানতে হবে বিকল্প আয়ুর্বেদিক মেডিসিন একটি স্বীকৃত চিকিৎসা ব্যবস্থা৷

বিকল্প এই চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরো সমন্বিত রূপ দিতে বাংলাদেশ ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি আইন নামে নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার৷সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হলে ট্র্যাডিশনাল (প্রচলিত ও দেশীয়) চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করতে হবে৷ এ জন্য আইন দ্রুত প্রণয়ন করা জরুরি৷ দরিদ্র মানুষের কাছে ট্র্যাডিশনাল চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো জনপ্রিয়৷ কম খরচে চিকিৎসা পায় বলে সাধারণ মানুষ এ সেবা নিতে পছন্দ করে৷ তবে এ চিকিৎসা পদ্ধতির মান বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের আরো তৎপর হতে হবে৷

আয়ুর্বেদ দিবস পালন করার উদ্দেশ্যঃ –

১।আয়ুর্বেদকে মূল স্রোতে আরও প্রচার করার প্রয়াস।

২।আয়ুর্বেদের শক্তি এবং এর অন্যান্য চিকিৎসার নীতিগুলিতে মনোনিবেশ করন।

৩।আয়ুর্বেদের সম্ভাব্যতাকে কাজে লাগিয়ে রোগ এবং সম্পর্কিত অসুস্থতা এবং মৃত্যুর বোঝা হ্রাস করন।

৪।জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি ও জাতীয় স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে অবদান রাখার জন্য আয়ুর্বেদের সম্ভাবনা অন্বেষণ করা।

৫।আজকের প্রজন্মে সচেতনতার বোধ তৈরি করুন এবং সমাজে রোগ নিরাময়ে আয়ুর্বেদিক নীতিগুলি প্রচার করুন।

আপনার মতামত লিখুন :